ভূমিকা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে চোখে ছানি বা ক্যাটারাক্ট (Cataract) একটি অত্যন্ত পরিচিত সমস্যা। অনেকেই চোখে ঝাপসা দেখা, রাতে দেখতে অসুবিধা বা আলোর দিকে তাকালে চোখে ঝলকানি অনুভব করলেও শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না।
চোখের ভেতরে থাকা স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে গেলে আলো ঠিকভাবে রেটিনায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে অসুবিধা হতে পারে।
ছানি সাধারণত ধীরে ধীরে তৈরি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে উজ্জ্বল আলো বা উপযুক্ত পাওয়ারের চশমা কিছুটা সাহায্য করতে পারে। কিন্তু দৃষ্টিশক্তির সমস্যা যদি পড়াশোনা, রান্না, হাঁটাচলা, গাড়ি চালানো বা দৈনন্দিন কাজকে প্রভাবিত করে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছানি অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
চোখে ছানি কী?
চোখের ভেতরে একটি স্বচ্ছ প্রাকৃতিক লেন্স থাকে। এই লেন্স আলোকে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে। রেটিনা আলোকে স্নায়বিক সংকেতে রূপান্তর করে এবং সেই সংকেত অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তখন আমরা কোনো বস্তু দেখতে পাই।
চোখের লেন্সের প্রোটিন জমাট বেঁধে বা গুচ্ছ তৈরি করলে লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকেই ছানি বা Cataract বলা হয়।
ছানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে—
- চোখে ঝাপসা দেখা দিতে পারে
- রং ফ্যাকাশে বা মলিন মনে হতে পারে
- আলোতে অস্বস্তি হতে পারে
- রাতের বেলায় দেখতে সমস্যা হতে পারে
- দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে
ছানি এক চোখে শুরু হলেও অন্য চোখেও হতে পারে। তবে দুই চোখে একই সময়ে বা একই গতিতে ছানি তৈরি হওয়া জরুরি নয়।
চোখে ছানির লক্ষণ কী কী?
ছানি সাধারণত ধীরে ধীরে তৈরি হয়। তাই প্রথম দিকে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের চোখে ছানি হয়েছে।
ছানির সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
- চোখে ঝাপসা বা ঘোলা দেখা
- রাতে দেখতে অসুবিধা
- রং আগের তুলনায় ফ্যাকাশে বা মলিন মনে হওয়া
- উজ্জ্বল আলো বা ঝলকানিতে চোখে অস্বস্তি
- আলোকে ঘিরে বৃত্ত বা হ্যালো (Halo) দেখা
- আক্রান্ত চোখে ডাবল বা দ্বৈত দেখা
- ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়া
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চোখে ছানি কেন হয়?
চোখের স্বাভাবিক লেন্সের গঠন ও স্বচ্ছতা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। ছানি হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. বয়সজনিত পরিবর্তন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেন্সের প্রোটিনে পরিবর্তন হতে পারে। বয়সজনিত ছানি সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
২. অতিবেগুনি রশ্মি বা UV Ray
দীর্ঘ সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে চোখের লেন্সের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৩. দীর্ঘদিন স্টেরয়েড বা কিছু ওষুধ ব্যবহার
দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড ব্যবহার এবং কিছু ওষুধ ছানি হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৪. ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস থাকলে ছানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫. চোখে আঘাত
চোখে আঘাত, রাসায়নিক পদার্থ, পোড়া বা অন্য কোনো আঘাতের পরে ছানি তৈরি হতে পারে। কখনও এটি দ্রুত দেখা দেয়, আবার কখনও কয়েক বছর পরে প্রকাশ পায়।
৬. রেডিয়েশন থেরাপি
ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার পরে কিছু ক্ষেত্রে ছানি তৈরি হতে পারে।
৭. ধূমপান
ধূমপান ছানি হওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
৮. অক্সিডেটিভ ক্ষতি
দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ফলে তৈরি অক্সিডেটিভ পরিবর্তন চোখের লেন্সের স্বাভাবিক গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
চোখে ছানির ঝুঁকির কারণ
কিছু বিষয় ছানি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। যেমন—
- বেশি বয়স
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- ধূমপান
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
- আগে চোখে আঘাত পাওয়া
- পরিবারে ছানির ইতিহাস থাকা
- দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকা
- ডায়াবেটিস
- এক্স-রে বা ক্যানসার চিকিৎসাজনিত রেডিয়েশনের সংস্পর্শ
- উচ্চ রক্তচাপ
এক বা একাধিক ঝুঁকির কারণ থাকলেই ছানি হবেই—এমন নয়। তবে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে।
চোখে ছানির ধরন
ছানি কোথায় তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
১. নিউক্লিয়ার ক্যাটারাক্ট বা Nuclear Cataract
এই ধরনের ছানি চোখের লেন্সের মাঝখানে বা কেন্দ্রস্থলে তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে লেন্সের কেন্দ্র হলুদ বা বাদামি রঙের হয়ে যেতে পারে।
২. কর্টিকাল ক্যাটারাক্ট বা Cortical Cataract
এই ছানি সাধারণত লেন্সের বাইরের অংশ বা কর্টেক্সে (Cortex) তৈরি হয়। এটি অনেক সময় ত্রিভুজ বা পাখার মতো আকৃতির হতে পারে এবং ধীরে ধীরে লেন্সের কেন্দ্রে ছড়াতে পারে।
৩. পোস্টেরিয়র ক্যাপসুলার ক্যাটারাক্ট
এই ধরনের ছানি লেন্সের পেছনের অংশে তৈরি হয় এবং অন্য কিছু ধরনের ছানির তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে।
এর ফলে—
- কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা হতে পারে
- উজ্জ্বল আলোতে দেখতে অসুবিধা হতে পারে
- আলোতে ঝলকানি বেশি অনুভূত হতে পারে
৪. জন্মগত ছানি বা Congenital Cataract
কিছু শিশুর জন্মের সময় থেকেই ছানি থাকতে পারে অথবা জন্মের প্রথম বছরের মধ্যে এটি তৈরি হতে পারে। এটি বংশগত কারণেও হতে পারে বা গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনো অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৫. সেকেন্ডারি ক্যাটারাক্ট বা Secondary Cataract
কিছু রোগ বা ওষুধের কারণে ছানি তৈরি হলে তাকে সেকেন্ডারি ক্যাটারাক্ট বলা হয়। ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার বা চোখের কিছু রোগ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৬. ট্রমাটিক ক্যাটারাক্ট বা Traumatic Cataract
চোখে আঘাত পাওয়ার পরে এই ধরনের ছানি তৈরি হতে পারে। আঘাতের পরপরই অথবা কয়েক বছর পরে এটি দেখা দিতে পারে।
৭. রেডিয়েশন ক্যাটারাক্ট
ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিয়েশন নেওয়ার পরে বা দীর্ঘ সময় চোখকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা না দিলে কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের ছানি হতে পারে।
চোখে ছানি কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
চোখের চিকিৎসক আপনার দৃষ্টিশক্তি, উপসর্গ এবং চোখের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ছানি আছে কি না তা নির্ণয় করেন।
১. Visual Acuity Test
এটি সাধারণত চোখের চার্ট ব্যবহার করে করা হয়। এক চোখ বন্ধ করে বিভিন্ন আকারের অক্ষর পড়তে বলা হয়। এরপর অন্য চোখ পরীক্ষা করা হয়।
এর মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি কতটা স্পষ্ট বা দুর্বল হয়েছে, তা বোঝা যায়।
কখনও উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করে Glare Test করা হতে পারে।
২. Slit-Lamp Examination
এই পরীক্ষায় বিশেষ মাইক্রোস্কোপ ও উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করে চোখের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসক সাধারণত দেখেন—
- কর্নিয়া
- আইরিস বা চোখের রঙিন অংশ
- লেন্স
- লেন্সের ঘোলাভাব
৩. Retinal Examination
এই পরীক্ষার আগে চোখের মণি বড় করার জন্য বিশেষ ড্রপ দেওয়া হতে পারে। এরপর চিকিৎসক চোখের পেছনের অংশ ও রেটিনা পরীক্ষা করেন।
এর মাধ্যমে ছানির অবস্থা এবং চোখের অন্যান্য অংশ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
চোখে ছানির চিকিৎসা কী?
ছানির চিকিৎসা নির্ভর করে এটি কতটা দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করছে তার ওপর।
প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসক কিছু ক্ষেত্রে—
- উপযুক্ত পাওয়ারের চশমা
- বেশি উজ্জ্বল আলো
- দৈনন্দিন কাজের সময় অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা
ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।
তবে ছানির কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে ছানি অপারেশনই কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে।
ছানি অপারেশন কীভাবে হয়?
ছানি অপারেশনে চোখের ঘোলা প্রাকৃতিক লেন্স অপসারণ করে তার পরিবর্তে একটি কৃত্রিম লেন্স বা Intraocular Lens (IOL) বসানো হয়।
অপারেশনের আগে সাধারণত চোখ অবশ করার জন্য স্থানীয় অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহার করা হয়। রোগী সাধারণত জেগে থাকেন, তবে চোখে ব্যথা অনুভব করার কথা নয়।
ছানি অপারেশন সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর। ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, অপারেশনের পরে অধিকাংশ রোগীর দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়।
ছানি অপারেশনের ধরন
১. Small-Incision Surgery বা Phacoemulsification
এটি বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিতে—
- চোখে খুব ছোট একটি ছিদ্র বা কাট তৈরি করা হয়
- আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গ ব্যবহার করে ঘোলা লেন্সকে ছোট অংশে ভেঙে ফেলা হয়
- ভাঙা অংশ বের করে নেওয়া হয়
- এরপর কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়
২. Large-Incision Surgery বা Extracapsular Cataract Extraction
ছানি খুব বড় বা জটিল হলে কিছু ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।
এতে তুলনামূলক বড় কাট দিয়ে ঘোলা লেন্স অপসারণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে সুস্থ হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।
৩. Femtosecond Laser Cataract Surgery
এই পদ্ধতিতে লেজার ব্যবহার করে লেন্সের কিছু অংশ ভাঙা বা অপারেশনের নির্দিষ্ট ধাপ সম্পন্ন করা হয়।
কিছু ক্ষেত্রে কর্নিয়ার আকৃতিজনিত সমস্যা বা Astigmatism থাকলে চিকিৎসক এই পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারেন।
ছানি অপারেশনের পরে কী কী সতর্কতা মানবেন?
অপারেশনের পরে চিকিৎসক সাধারণত—
- নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চোখের ড্রপ দেন
- চোখ সুরক্ষার জন্য শিল্ড বা সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করতে বলতে পারেন
- ফলো-আপ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করেন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ড্রপ ব্যবহার করা এবং নির্ধারিত সময়ে চোখ পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
নিজে থেকে চোখ ঘষা, ওষুধ বন্ধ করা বা চোখে কোনো কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়।
চোখে ছানি প্রতিরোধে কী করা যায়?
সব ধরনের ছানি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস সহায়ক হতে পারে—
- বাইরে গেলে UV সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করুন
- ধূমপান এড়িয়ে চলুন
- ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান
- চোখে আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকলে সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করুন
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার করবেন না
কখন দ্রুত চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিচের সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
- চোখে তীব্র ব্যথা
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- হঠাৎ আলো ঝলকানো বা অনেক কালো দাগ দেখা
- চোখে আঘাত লাগা
- দ্রুত দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
- ঝাপসা দেখা দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করা
উপসংহার
চোখে ছানি একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে এর সম্ভাবনা বাড়ে। ছানি ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে সময়মতো চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে এটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপযুক্ত চশমা ও ভালো আলো কিছুটা সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ছানির কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে ছানি অপারেশন একটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে।
Frequently Asked Questions (FAQ)
১. চোখে ছানি কি খুব গুরুতর রোগ?
ছানি দৃষ্টিশক্তিকে ধীরে ধীরে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা করলে এটি কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
২. চোখে ছানি হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
ঝাপসা দেখা, রাতে দেখতে অসুবিধা, আলোতে ঝলকানি, রং ফ্যাকাশে দেখা, আলোকে ঘিরে হ্যালো দেখা এবং ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
৩. ছানি কি ওষুধে সেরে যায়?
ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ছানি অপসারণের কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। প্রাথমিক পর্যায়ে চশমা বা উজ্জ্বল আলো কিছুটা সাহায্য করতে পারে।
৪. ছানি অপারেশন কি নিরাপদ?
ছানি অপারেশন সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর। তবে প্রতিটি রোগীর চোখের অবস্থা আলাদা, তাই অপারেশনের আগে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
৫. ছানি কি এক চোখ থেকে অন্য চোখে ছড়ায়?
দুই চোখেই ছানি হতে পারে, তবে এটি একই সময়ে বা একই গতিতে তৈরি নাও হতে পারে।
৬. ছানি অপারেশনে কি ব্যথা হয়?
সাধারণত চোখ অবশ করার জন্য স্থানীয় অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহার করা হয়। রোগী জেগে থাকলেও ব্যথা অনুভব করার কথা নয়।
৭. ছানি অপারেশনের পরে কি চশমা লাগতে পারে?
অপারেশনের পরে চোখের অবস্থা ও ব্যবহৃত কৃত্রিম লেন্সের ওপর নির্ভর করে কিছু রোগীর চশমার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
Suggested Internal Links
- চোখের যত্নে প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস
- চোখের পাওয়ার কেন পরিবর্তন হয়?
- মুখের গঠন অনুযায়ী সঠিক চশমা কীভাবে বেছে নেবেন?
- ডায়াবেটিসে চোখের যত্ন কেন জরুরি?
- বয়স বাড়লে চোখের কোন কোন সমস্যা দেখা দিতে পারে?


