আয়ুর্বেদ মতে ব্রাহ্মীর গুণ হল তিক্ত-কযায়-মধুর রস-সম্পন্ন, শীতধর্ম, লঘু, বুদ্ধি-স্মৃতি-মেধাজনক, আয়ুবর্ধক, স্বরবর্ধক, রসায়ন, শুক্রবর্ধক, পুষ্টিকর, নারী-পুরুষ-উভয়েরই যৌনশক্তি বর্ধক, কোষ্ঠ পরিপারক, কুষ্ঠ, পাণ্ডু, মেহ/প্রদেহ, রক্তদোয, কাস, শোথ, জ্বর, বিষ দোষ, উন্মাদ, অপথার (মৃগী), বসন্ত রোগ, কোষ্ঠবদ্ধতা, মৃতকৃস্তুতা নাশক।

নব্যের সমীক্ষায়-ব্রাহ্মী স্বাদে তেতো, মূত্রকারক, কামোদ্দীপক, মৃদু বিবেচক ও রক্ত পরিষ্কারক। এটি চিন্তাশক্তি, পড়াশোনার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। অ্যালঝাইমার্স প্রতিরোধক। ব্রাহ্মী উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা, ব্যাকুলতা, স্নায়বিক দুর্বলতা, বুক ধড়ফড়, মাথা যন্ত্রণা, অবসন্নতা, ঘুমের ব্যাঘাত, মনঃসংযোগের অভাব, বদহজম, অপম্মার, মনোবিকার প্রভৃতি প্রতিহত করতে পারে। লিভারের ক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে শারীরকে বিষ দোষ মুক্ত করে। রক্তে শর্করার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত কমে গিয়ে, নবজাতকের মস্তিষ্কে যে ক্ষতি হয়, তা ব্রাহ্মী পূরণ করতে সক্ষম। এটির বেদনানাশক গুণ রয়েছে। ব্রাহ্মীর ব্যবহারে যন্ত্রণানাশক ঔষধের ব্যবহার কমে। শরীরের অযথা ফোলা, লাল লাল চাকা চাকা দাগ, অ্যালার্জি কমাতে পারে ব্রাহ্মী। এতে অত্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় কিডনির পক্ষে খুবই উপকারী। মস্তিষ্ক কোষের ক্ষয় পূরণ করার ক্ষমতা থাকায় ব্রাহ্মী মন ও মস্তিষ্কের পক্ষে খুবই উপকারী। নারী ও পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক, ব্লাডপ্রেশারকে স্বাভাবিক রাখে এবং থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি করতে
পারে। যদিও যেসব মাটিতে আর্সেনিক, ক্যালশিয়াম, সীসা ও পারদ প্রভৃতি ভারী ধাতু থাকে, সেখানে ব্রাহ্মীর চাষ করতে নেই এবং ওখানকার ব্রাহ্মী খেতে নেই।
গর্ভবর্তী ও স্তন্যদায়ী মা, যাঁদের হার্টের গতি কম (ব্র্যাডিকার্ডিয়া), পাকস্থলী, অস্ত্র প্রভৃতিতে ক্ষত থাকলে, অ্যাজমা ও এসফিসিমা রোগে, অস্ত্রে অবরোধ থাকলে, থাইরয়েড হরমোন বেশি থাকলে ব্রাহ্মী না খাওয়াই ভালো।


