চা আমরা অনেকেই কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে বানাতে জানি না।
আপনার চা বানানোর সাথে তাই একবার যাচাই করে নিন-
গরম জলে চা পাতা, দুধ, চিনি ফেলে দিলেই তা ‘চা’ হয়ে ওঠে না। চা বানানো প্রায় একটা শিল্প। সঠিক অনুপাতে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলি মেশালে পানীয়টি হয়ে উঠবে স্বাদেগন্ধে অননুকরণীয় এবং স্বাস্থ্যকর।

• গ্রিন টি —অনেকে জল টগবগিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে তার মধ্যে গ্রিন টি দেন। এটা ঠিক পদ্ধতি নয়। ফুটন্ত জলে গ্রিন টি’র পাতার গুণ অনেকটাই নষ্ট হয়। তাই বলা হয়, জল তাল্প অল্প ফুটছে বা ফোটা শুরু হয়েছে, এমন অবস্থাতেই গ্রিন টি দিতে হবে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ভাগের উষ্ণতা ৮০ থেকে ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেই গ্রিন টি মেশানো উচিত। তবে বিষয়টিকে এত জটিল না করাই ভালো। কারও এত হিসাব বুঝতে অসুবিধে হলে জল পুরো ফুটিয়ে নিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। এবার সেই ফুটন্ত জল খানিকক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে সামান্য ঠান্ডা করে নিন। এরপর সেই জলে এক কাপ চা প্রতি দুই গ্রাম গ্রিন টি এই হিসাবে চা মিশিয়ে নিতে হবে। এবার দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর চা পরিবেশন করুন। তবে কোনওভাবেই গ্রিন টি’তে চিনি বা দুধ মেশানোর ভুলটি করবেন না। এতে গ্রিন টি’র নিজস্ব স্বাদ এবং গুণাগুণ নষ্ট হয়।

• দার্জিলিং চা – দার্জিলিং চা মূলত পাতা আকারে পাওয়া যায়। আদে গন্ধে এই চালা জবাব! এক্ষেত্রে জল ফোটা (ফাস্ট বয়েল) শুরু করলেই গ্যাস থেকে নামিয়ে নিতে হয়। এবার সেই ফালে এক কাপ চা প্রতি দুই গ্রাম হিসাবে চা মিশিয়ে নিয়ে তিন থেকে চার মিনিট অপেক্ষা করুন। দার্জিলিং চায়ে দুধ মেশানো হয় না। তবে মিষ্টি চা পানের ইচ্ছে থাকলে সামান্য মধু মিশিয়ে নিন।

• অর্থোডক্স টি—দার্জিলিং চায়ের মতোই এই চাও মূলত পাতা আকারেই পাওয়া যায়। তবে স্বাদে গন্ধে দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে এই চায়ের তফাৎ অনেকটাই। এই পাতা চা গরম জলে প্রতি কাপ পিছু দুই থেকে আড়াই গ্রাম পর্যন্ত মেশানো যায়। সঠিকভাবে তৈরি করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত তাপেক্ষা করতে হবে। এই চায়ে অবশ্য তাল্প দুধ ও চিনি মিশিয়ে খাওয়াই যায়।

• সিটিসি — বেশিরভাগ মানুষই এই সিটিসি চা খান। এই চা প্রধানত ছোট ছোট দানাদানা আকারের বা গুঁড়ো অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যান্য চায়ের থেকে সিটিসি চা স্বাদে একটু বেশিই কড়া। এর গন্ধও অন্যান্য চায়ের থেকে আলাদা। এক্ষেত্রেও জল ফুটতে শুরু করলেই গ্যাস থেকে নামিয়ে নিন। এবার সেই গরম জলে আর্থোডক্স চায়ের মতোই প্রতি কাপ পিছু দুই বা আড়াই গ্রাম চা পাতা দিয়ে চার মিনিটের মতো ভালো করে মেশাতে হবে। সিটিসি চা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুধ ও চিনি সহাযোগে বানানো হয়। তবে দুধ ছাড়াও এই চা খেতে মন্দ লাগে না।

• টি ব্যাগটি ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় অভিযোগ হল এই চায়ে নাকি সাধারণ চায়ের মতো স্বাদ মেলে না। এমন ধারণার ভিত্তি নেই। শুধু সঠিকভাবে চা বানাতে জানতে হবে। এক্ষেত্রে গরম জলে টি ব্যাগ ডোবানোর পর জলের রং একটু পরিবর্তন হতে শুরু করলেই টি ব্যাগ ফেলে দেন অনেকে। না, তেমনটা করলে চলবে না। এক্ষেত্রে টি ব্যাগ জলে ডোবানোর পর অন্তত পক্ষে তিন থেকে চার মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তাহলেই চায়ের আসল স্বাদ পাওয়া সম্ভব।
এক নজরে
• কত কাপ চা বানাচ্ছেন এই হিসাবটি আগেভাগে সেরে নিন। এতে চা এবং জালের পরিমাণের উপর স্পষ্ট ধারণা থাকবে।
•চায়ে চিনি-দুধ মেশানোর বিষয়টা আপনা ভালো লাগার উপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে আদর্শ পরিমাণ বলে কিছু হয় না।
• নিত্যনতুন পদ্ধতিতে চা বানিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন। এতে চায়ের বিভিন্ন স্বাদ সম্বন্ধে জ্ঞান বাড়বে।


